২৫ শে মার্চের গণহত্যা

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ | NCTB BOOK
1.3k
Summary

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করে, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত। এই অভিযানের নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট', যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ১৮ই মার্চ।

২০শে মার্চ থেকে বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্র ও রসদ খালাস করা হয়। ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়, এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে এই অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিভিন্ন হলে এবং অন্যান্য স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। ঢাকার পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য শহরগুলিতেও একইভাবে গণহত্যা শুরু হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরন্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দের অপারেশন সার্চলাইট'।

১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাও পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন। ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়। ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে। ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। এ সময় প্রতিদিন ৬টি থেকে ১৭টি পর্যন্ত পিআইএ ফ্লাইট বোয়িং ৭৩৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকা আসে এবং অসংখ্য সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষা করে। ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াড জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস গুৰু হয় । সব প্রস্তুতি শেষে ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেয়া হয়। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ শুরু হয় গভীর রাতে। জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলে চালানো হয় হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন। এছাড়া পিলখানা, ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইলে আক্রমণ করে নির্বিচার হত্যা চালানো হয়। একইভাবে গণহত্যা চলেছিল পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়েরবাজার, গণকটুলি, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান প্রভৃতি স্থানে। ঢাকার ন্যায় দেশের অন্যান্য শহরেও পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...